SS TV live
SS News
wb_sunny

Breaking News

গাইবান্ধায় পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

 

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ , গাইবান্ধাঃ ঈদ উপলক্ষে গাইবান্ধার পৌর এলাকার লেক পার্কে নৌকা চালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুটি মামলা দ্বায়ের করা হয়েছে। যার একটিতে চাঁদাবাজির অভিযোগে প্রধান আসামি করা হয়েছে গাইবান্ধায় পৌর সভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইউনুছ আলী শাহীনকে। এছাড়া আরো ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত নামা ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দ্বায়ের করেন পূর্ব কোমরনই (কুটিপাড়া) এলাকার সাইদার রহমান। যাহার মামলা নম্বর-০৪। এর আগে একই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৯জনকে আসামিসহ ১০জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দ্বায়ের করেন শাহীন কাউন্সিলরের ভাই সাইফুল ইসলাম। গাইবান্ধা সদর থানায় দুটি মামলাই করা হয়েছে রবিবার সন্ধ্যায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঈদ উপলক্ষে গোদারহাট লেক পার্ক ১লা আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে নৌকা নিয়ে যায় বাদি সাইদার মিয়ার ভাতিজা ফিরোজ মিয়া। এসময় সেখান থেকে নৌকা নিয়ে ফেরত যেতে বলে আসামিরা। তখন ফিরোজ মিয়া পিকনিকে যাবে, কিছু ভাড়া মারার কথা বলায় ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসামি ইউনুছ আলী শাহীন মিয়া। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে এক নম্বর আসামির হুকুমে অন্যান্য আসামিরা বাদির ভাতিজা ফিরোজকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়। পরে বাদিসহ বাদির ভাতিজা মিয়াপাড়ার বালুর মাঠে গেলে, আসামিরা হাতে লোহার রড, পাইপ নিয়ে পথ রোধ করে মারপিট করে। বিষয়টি স্থানীয় লোকদের বিচারের উদ্দেশ্যে জানালে, একই দিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাদির মেয়ে শারমিন, ভাতিজি সাথি ও ভাতিজা শাকিল আহমেদ মিতালি বাজারে ওষুধ আনতে যাওয়ার পথে আসামির বাড়ির সামনে পৌঁছালে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে এক নম্বর আসামির হুকুমে আসামীগণ তাদেরকে মারপিট করে ছেলাফুলা জখম করে। এসময় বাদির মেয়ের ডানপাঁয়ে লোহার রোড দিয়ে আঘাত করে। একই সাথে বাদির ভাতিজির মাথায় ধারালো ছোরা দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে। ভাতিজি পরে গেলে আসামিরা তার বুকের উপর চেপে বসে হত্যার উদ্দেশ্য গলা টিপে ধরে একই সাথে তার গলায় থাকা আট আনা স্বর্ণের চেন মূল্য (২৪ হাজার) টাকা ছিনিয়ে নিয়ে, পড়নের কাপড় টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটায়। এছাড়া বাদির মেয়ের মাথার চুল ধরে বুকে পিঠে আঘাত করে পড়নের কাপড় টেনে শ্লীলতাহানি ঘটায়। এসময় তার গলায় থাকা ১০ আনা স্বর্ণের চেন মূল্য (৩০ হাজার) টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে বাদির মেয়ে, ভাতিজা ও ভাতিজিকে গুরত্বর আহত অবস্থায় গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে একই দিনের কথা উল্লেখ করে মামলা দ্বায়ের করেছেন শাহীন কাউন্সিলরের ভাই সাইফুল ইসলাম।যাহার মামলা নম্বর-০৩। মামলার এজাহারে জানা যায়, বাদির সাথে আসামিদের পূর্ব থেকে গোলমাল শত্রুতা চলে আসতেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঈদ আনন্দ উপভোগ করার জন্য ঘাঘট লেক পার্কে নৌকা নিয়ে গেলে বাদি এবং বাদির ভাইকে আসামিরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ঘাঘট লেকে নৌকা চালালে তাদেরকে একটি খাসি কিনে দিতে হবে বলে দাবি করে। এছাড়া খুন জখমের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শণ করে চলে যায়। পরে বাদির ভাই ইউনুস আলী শাহীনসহ বাদি বাড়ি ফেরার পথে বিকেল ৫ টার দিকে প্রতিবেশী খায়রুল ইসলামের হোটেলের সামনে আসলে আসামিরা হাতে লাঠি, ছোড়া, লোহাররড, বেকি ইত্যাদিসহ পথ রোধ করে আসামি সাইদার রহমানের হুকুমে সেসহ অন্যান্য আসামীগন বাদির হাতে বুকে পিঠে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে বেদনাদায়ক জখম করে। এছাড়া আসামিরা ধারালো ছোড়া দিয়ে পিঠে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় বাদির ভাই শাহিন, তার শ্যালক শামসুল হক, আমজাদ হোসেন ও চাচা গোলাম মোস্তফা বাধা দিলে আসামিরা তাদেরকেও মারপিটসহ ছেলাফুলা ও রক্তাক্ত জখম করে। পরে তাদের আত্মচিৎকারে আশেপাশের লোকজন আগিয়ে আসলে আসামিগণ খুন জখমের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শণ করে চলে যায়। পরে বাদিসহ জখমিদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মোঃ শাহরিয়ার 'সোনারগাঁও সময় কে ' বলেন, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। সাইফুল ইসলাম বাদি হওয়া মামলায় বিজয় নামের ২নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Tags

সাবসক্রাইব করুন!

সবার আগে নিউজ পেতে সাবসক্রাইব করুন!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন