SS TV live
SS News
wb_sunny

Breaking News

রাত পোহালেই কোরবানীর ঈদ হাসি নেই বন্য কবলিত মানুষের মাঝে



জিহাদ হক্কানী : রাত পোহালেই দুয়ারে হাজির মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল আযহা, কোরবানির ঈদ। ঈদ মানে আনন্দ হলেও নদী ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব বন্যা পীড়িত পরিবার গুলোর কাছে যেন বিষাদের সূর। একদিকে করোনা অন্যদিকে তিনদফা বন্যা এই উৎসবকে যেন ম্লান করেছে গাইবান্ধার বানভাসি মানুষের। দীর্ঘ সময় ধরে করোনা এবং বন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়ায়, পুরাতন জামা-কাপড়েই ঈদ করবে বানভাসিরা। স্বাভাবিক দিনের মতই কাটবে তাদের ঈদের দিন। ঈদকে সামনে রেখে নেই তাদের কোনো প্রস্তুতি। সন্তানদের নতুন কাপড় দিতে না পেয়ে গুমরে গুমরে কাঁদছে অসহায় দিনমজুর মা-বাবা।

টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে হঠাৎ বন্যা দেখা দেয় গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে। ক্রমেই অবনতি হয়ে জেলার সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও গোবিন্দগঞ্জসহ পাঁচ উপজেলার বন্যা দেখা দেয়।তলিয়ে যায় বাড়িঘর , শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী-বেসরকারি হাজারো স্থাপনা। দীর্ঘ সময় ধরে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় তিন লক্ষ মানুষ। এতে করে ভয়াবহ রুপ নেয় দীর্ঘ একমাসের কয়েক বছরের রেকর্ড ভাঙ্গা বন্যা। একই সাথে নদী ভাঙ্গনে নিঃস্বও হয়েছে কয়েকশত পরিবার। তবে ইতোমধ্যে নামতে শুরু করছে বন্যার পানি। জেগে উঠেছে জেলার ১’শ ৬৫ টি চরের বেশির ভাগ চরেই।

বৃহস্পতি বার সরেজমিনে ফুলছড়ি উপজেলার ফুজলুপুর ও খাটিয়মারি চর দেখতে গেলে, সামনে আসে খাটিয়মারি চরের ৫৬ বছর বয়সের বৃদ্ধা বিধবা মহিলা। নাম বানেচা বেওয়া। বাড়ি কোনটা?  জানাতে চাইলেই হাউ-মাউ করে কাঁদতে থাকেন তিনি। কাঁন্নার তোরে বোঝায় যাচ্ছিলোনা কী বলছিলেন তিনি ?  কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হলে স্বামীর রেখে যাওয়া সামান্য জমি আর আশ্রয়ের কাঁচা একটি মাত্র ঘর হারানোর কথা বলতেই আবারো কাঁদতে শুরু করেন সুফিয়া বেওয়া। এসময় ঝরতেই থাকে তার চোখের পানি। যাদের থাকার আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিয়েছে নদী, যাদের একবেলা খাবারো অনিশ্চিত, এমন বানেচাদের জন্যও কি এই ঈদ?

কিছুটা পথ গেলে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে বন্যায় ডুবে থাকা নষ্ট হওয়া ঘরবাড়ি মেরামত করছেন উত্তর খাটিয়ামারি চরের আব্দুল রউফ মিয়া। ঈদে কেনাকাটা হয়েছে কি না?  এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দিনমজুরের কাজ করি সংসার চলে। ভাইরাসের কারনে অনেক দিন হলো কাজকাম নাই। তার উপর বন্যা। খাবারে জোগাবার পাইনা কেনাকাটা করমু ক্যামনে। আজ যেমন যায় কাইলো তেমন যাবে”।

একই গ্রামের ইদ্রিস আলী জানান, এবারের বন্যায় নদী ভাঙ্গনে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন তিনি। দুই সন্তানসহ চার সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাবন করছেন ইদ্রিস আলী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হামরা (আমরা) গরীব মানুষ আমাগো আবার কিসের ঈদ। পুরাতন কাপড় পরেই ঈদ কাটানোর কথা বলেন তিন।


ঈদের দিনে সন্তানদের নতুন কাপড় দিতে না পাড়ার কথা বলতেই বেদনার ছাপ ভেসে ওঠে মুনছুর মিয়ার -মজিরনের চোখে মুখে। ঠোঁট কাপানো কন্ঠে কথা বলতেই মাথা নিচু করে থমকে যান মুনছুর । এই দৃশ্য দেখে স্ত্রী মজিরনের চোখের পানি গড়িয়ে পরে নাকের ডগায়। দুই বছরের একমাত্র সন্তানকে ঈদের দিনে নতুন কাপড় দিতে না পাড়ায় গুমরে গুমরে কাঁদছেন তারা। স্বপ্না বেগম বলেন,” ঢাকায় রিকশা চালাতেন তার স্বামী নওশাদ। করোনার কারনে বাড়িতেই আছেন। একটা ছোট্ট সন্তান নতুন কোনো কাপড় দিতে পারিনি”। চরাঞ্চলে সন্তানদের নতুন কাপড় দিতে না পেয়ে এমন হাজারো স্বপ্নার দিন কাটছে চোখে শুকনো জল নিয়ে গুমরে গুমরে কেঁদে।

ঈদের দিনে নতুন কাড়র পড়ে হেসে-খেলে বেড়ানো চরাঞ্চলের ছোট্র শিশুরাও বুজতে শিখেছে পরিবারের দৈন্য-দারিদ্রতা। পুরাতন কাপড় পরে স্বাভাবিক দিনের মতোই ঈদের দিন কাটাবে এমন প্রস্ততি তাদের। তবে এমনটা বলতেই চোখে মুখে বিষাদের ছাপ ভেসে ওঠে ছোট্র শিশু সুজনের। ঈদের আনন্দকে বিসর্জন দিয়ে বাবার অভাবের কথা জানায় উত্তর খাটিয়ামারির চরের চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ুয়া স্কুল ছাত্র সুজন। “বাবার কামাই নাই, তাই আমাগো ঈদে নতুন কাপড় দিতে পারে নাই। আজকের দিন যেভাবে যাবে, ঈদের দিনও সেভাবে যাবে বলে জানায় সে”।

শুধু নতুন কাপড় নয়, ঈদের দিন একবেলা ভালো খাবারে  ব্যবস্থা নেই ওই এলাকার বানভাসি অনেকের ঘরে। বেচে থাকাটায় যখন দায়, তখন নতুন কাপড় আর গোশত ভাতের কথা তাদের কাছে আকাশ ছোঁয়ার মতোই।

ফুলছড়ি উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবু রায়হান দোলন বলেন, ঈদের দিনে ভালো খাবারের ব্যবস্থা নেই এমন তিন’শ বানভাসি পরিবারকে এক কেজি করে গোশত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সাথে রান্না করার জন্য তেল, মসলাও দেওয়া হবে।

এছাড়া ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে পাওয়া শাড়ি-লুঙ্গি বানভাসিদের মাঝে বিতরণ করার কথাও জানান তিনি।

Tags

সাবসক্রাইব করুন!

সবার আগে নিউজ পেতে সাবসক্রাইব করুন!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন