SS TV live
SS TV
wb_sunny

এই মুহুর্তে

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনাকালীন প্রনোদনা দিয়ে অসহায় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে বাঁচান।


সাজ্জাদ হোসেন চিশতিঃ

বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত,গোটা পৃথিবী আজ এক ভয়াবহ অবস্থায় আছে। এতে করে অর্থনৈতিক , সামাজিক, পারিবারিকসহ নানা ভাবে বিপযস্ত হয়ে পড়েছে এসব দেশের মানুষ ।চলছে করোনার বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার লড়াই ।বাংলাদেশও তার বাহিরে নয়।বলা চলে করোনায় একবৃন্তে দাঁড়িয়েছে গোটা বিশ্ব ।আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,মানবতার মা শেখ হাসিনা করোনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।সারাদেশেই চলছে লকডাউন।এতে সুরঙ্গ পথে ক্ষীণ আলোর মুখ দেখছি আমরা।লকডাউনে কর্মহীন হয়ে মানবেতর  জীবন যাপন করছেন আমাদের মেহনতি,শ্রমজীবী,নিম্ন আয়ের মানুষ।সরকার কর্মহীন মানুষদের পুনর্বাসনে প্রনোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।এতে চলমান সঙ্কট অচিরেই সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের  বীর সেনানী ও তাদের পরিবারও করোনাকালে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদেরকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রনোদনা কর্মসুচির আওতায় আনার দাবি উঠেছে। তাদের এই প্রনোদনা বাস্তবায়নে মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের এই দুর্দিন ও দু:সময়ে সরকার পাশে দাঁড়াবে বলে আমরাও আশাবাদী। 

কারন, মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানে আজ আমরা একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখেছি। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিকারী হতে পেরেছি ।একটি স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। তাদের কাছে  আমরা সত্যই সারাজীবন ঋণি। এই ঋণ শোধ করার মতো নয়।বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে অনেক কিছু করেছেন।তাদেরকে মাসিক ভাতা দিচ্ছেন । ঈদ বোনাস দিচ্ছেন।এতে  মুক্তিযোদ্ধারা ও তাদের পরিবার খুশি। তবে চলমান করোনা সমস্যায় মুক্তিযোদ্ধারা অসহায় হয়ে পড়েছেন । তাদের পুনর্বাসনে সরকার এককালীন প্রনোদনা দেয়ার ঘোষণা দিলে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের   মলিন মুখের হাসি আরো উজ্জল হয়ে উঠবে বলে আমরা মনে করি। সেই প্রত্যাশায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,বিশ্বরত্ন শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছেন তারা ।এই দু:সময়ে মুক্তিযোদ্ধারাও চায় একটু প্রনোদনা, একটু সহানুভুতি।বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করে দেখবেন বলে মুুক্তিযোদ্ধাদের দাবি ।

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক পরিসংখ্যাণ করতে না পারার ব্যর্থতার দু:খ আর কতদিন বয়ে বেড়াতে হবে সেটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে সবার মনে ।তবে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ মাধ্যমে ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের দেয়া তথ্যমতে জানা যায় ,মুক্তিযুদ্ধের পর সেক্টর কমান্ডার ও সাবসেক্টর কমান্ডারদের প্রকাশনা থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৮০০ এবং অনিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭ হাজার। মোট ১ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ জন। সেক্টর থেকে পাওয়া  দলিলে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৭০ হাজার ৮৯৬ জন। বাকি ৬০ হাজার ৯০৪ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে সংরক্ষিত লাল বইয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইবিআরসিতে সংরক্ষিত ৭০ হাজার ৮৯৬ জনের মধ্যে অনেকের নাম এ তালিকায় নেই। ফলে এ তালিকাটিও অসম্পূর্ণ। ১৯৮৮ সালে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল আমিন আহমদ চৌধুরী বীরবিক্রম ইবিআরসিতে রাখা ভারতীয় তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা ৬৯ হাজার ৮৩৩। 

১৯৯৪ সালে বিএনপির তালিকা অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৮৬ হাজার। আওয়ামী লীগের সময় (১৯৯৬-২০০১) মুক্তিবার্তা (লাল) অনুযায়ী, ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৫২ জন। পরে বিএনপি-জামায়াত ২ লাখ ১০ হাজার ৫৮১ জনকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ওইসময় গেজেটে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ৭০ হাজারের বেশি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করে। এই অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের ষষ্ঠ তালিকার কাজ শুরু করে দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকার। এসব আবেদন যাচাইবাছাই করতে ৪৭০টি কমিটি গঠন করা হয়। নতুন করে তালিকাভুক্তির জন্য সারাদেশ থেকে মোট আবেদন জমা পড়ে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৫০টি। যাচাইবাছাই কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন ২৯ হাজার ৩৭২ জন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন ,দেশে বর্তমান গেজেট-ভুক্ত রয়েছেন প্রায় ২ লক্ষ কুড়ি হাজার মুক্তিযোদ্ধা। খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তি যোদ্ধার সংখ্যা ২জন । তবে গেজেটভূক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৩২২ জন। মন্ত্রী বলেন, এ তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে মোট ৫ হাজার ৭৯৫ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম ঠিকানা সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ তথ্য ওয়েবসাইটে রয়েছে। এরমধ্যে গেজেটভুক্ত বেসামরিক শহীদ ২ হাজার ৯২২ জন, স্বশস্ত্র বাহিনীর শহীদ ১ হাজার ৬২৮, বিজিবির শহীদ ৮৩২ জন এবং পুলিশের শহীদ ৪১৩জন।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২০ হাজার সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হবে। ৪৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সারা দেশে ২৮১ টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হবে।সর্বশেষ গেজেটর্ভুক্ত তালিকা অনুযায়ী দেশে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬৭ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৫২৪৫ জন, চট্টগ্রামে ৩৪৩৭৪জন, ময়মনসিংহে ১২৯০৭ জন, খুলনায় ২৭৫৮২ জন, রাজশাহীতে ১৯৩৭০ জন, রংপুরে ১৬৩৬৮ জন, সিলেটে ১২৭২৭ জন এবং বরিশালে ১৫৩০২ জন। আর অন্যান্য গেজেটর্ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ৫১৫৯২ জন। এসব মুক্তিযোদ্ধাদের অচিরেই দেশব্যাপী একদিনে একযোগে ডিজিটাল সনদ প্রদান করা হবে। বিবিসির এক রিপোর্টে  উল্লেখ করা হয়েছে ,মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে পাঁচবার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যাও বেড়েছে।৮০'র দশকে সর্বপ্রথম মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় তালিকা প্রণয়ন হয়। সেসময় ঐ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এক লক্ষেরও কিছু বেশি সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাকে। পরবর্তীতে আরও কয়েক দফা যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপি সরকারের আমলে প্রায় দুই লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার তালিকার গেজেট প্রণয়ন করা হয়। মন্ত্রী জানান, এ তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে মোট ৫ হাজার ৭৯৫ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম ঠিকানা সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ তথ্য ওয়েবসাইটে রয়েছে। এরমধ্যে শহীদ বেসামরিক গেজেটভুক্ত ২ হাজার ৯২২ জন, স্বশস্ত্র বাহিনী শহীদ ১ হাজার ৬২৮, শহীদ বিজিবি ৮৩২ জন এবং শহীদ পুলিশ ৪১৩ জন।শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধীস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২০ হাজার সমাধীস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হবে। 

তিনি জানান, ৪৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্য মুক্তিযোদাধাদেরয়ে সারা দেশে ২৮১টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হবে।বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে ৭০ দশমিক ৪৬ একর জমি ও প্রধান কার্যালয়সহ ১৭টি প্রতিষ্ঠান আছে। এরমধ্যে ঢাকায় ২৭ দশমিক ১৭ একর, গাজীপুরে ৫ দশমিক ৫৫ একর, নারায়ণগঞ্জে ৪ দশমিক ৬৪ একর এবং চট্টগ্রামে ৩৩ একর জমি রয়েছে।আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার আরো জোরালো ভূমিকা রেখে অসহায় ও দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করে তাদের মুখে হাসি ফোটবে সেই প্রত্যাশা করছি ।তাই করোনা কালে মুক্তিযোদ্ধারদের এককালীন প্রনোদনা দেয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে ভেবে ব্যবস্হা নেয়ার জন্যে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে দাবি জানাচ্ছি।করোনাকালীন প্রনোদনা দিয়ে অসহায় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে বাঁচান ।এতে মুক্তিযোদ্ধারা ও তাদের পরিবার উপকৃত হবেন ।অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের মলিন মুখে ফুটবে হাসি । মুক্তিযোদ্ধাদের সেই হাসি আমরা দেখতে চাই । সেই প্রত্যাশায় দিন গুনলাম আমরা ।আমরা জানি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,মানবতার মা,বিশ্বরত্ন,জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মুক্তিযোদ্ধাদের ও তাদের পরিবারের জন্য আন্তরিক,তিনি এই বিপদ কালীন সময়ে অবশ্যই তাদের পাশে থাকবেন, তাদের কে এককালীন প্রনোদনা দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটাবেন,কারন আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল, আমাদের শেষ ঠিকানা তো তিনি,মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার হাসলে হাসে বাংলাদেশ, কারন তারাই তো বাংলাদেশ। 
লেখকঃ সাংবাদিক, সাবেক ছাএনেতা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।

Tags

সাবসক্রাইব করুন!

সবার আগে নিউজ পেতে সাবসক্রাইব করুন!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন