SS TV live
SS News
wb_sunny

এই মুহুর্তে

বীরের বেশে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে যুগ্ম-আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাসুম।

সোনারগাঁও সময়ঃ করোনার দুঃসময়ে বিপাকে সব খাতের মানুষ। সরকারি বেসরকারি পর্যায় থেকে অনেকেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আলাদা করে ভাবেননি কেউ। এই ক্রান্তিকালে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সোনারগাঁওয়ের এক চেয়ারম্যান। নাম তার ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম। খুঁজে খুঁজে ইউনিয়নের ৩৬ জন মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গেছেন। সঙ্গে নিয়েছেন ফল-ফলাদির রঙিন ডালা। হাতের কাছে এতগুলো পুষ্টিকর ফল এবং বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ এই মুক্তিযোদ্ধাদের চোখেমুখে ভেসে ওঠে খুশির বান।
খবর নিয়ে জানা গেছে, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মাসুম সবসময়ই ইউনিয়নবাসীর জন্য উজাড় করে দেন। কখনও ফলের ডালা, কখনও ক্রান্তিকালীন ত্রাণ সামগ্রীর প্যাকেট। হাসি ফোটাচ্ছেন একের পর এক গ্রামের মানুষের মুখে। আর শুধু নিজের ইউনিয়ন নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি ইউনিয়নে পড়েছে তার মানবিকতার বিচরণ। এতে ইউনিয়ন ছাড়িয়ে তার মানবিকতার গল্প ছড়িয়ে পড়েছে দেশে-বিদেশে মানুষের মুখে মুখে।
জানা গেছে, ত্রাণ সামগ্রীর পাশাপাশি নানা রকমের ফল নিয়ে কয়েকদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি বাড়ি ছুটে চলছেন চেয়ারম্যান মাসুম। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফলের টুকরি তাদের হাতে তুলে দেন। এতে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার বেশ খুশি ও উৎফুল্ল।
জানা যায়, সোনারগাঁওয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নে ৩৬ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের বয়স ষাটোর্ধ্ব। তাদের বেশিরভাগই এমনিতেই পুষ্টিহীন। করোনার ভয়াবহতা মোকাবেলায় পুষ্টির বিকল্প নেই। সে বিষয়টি মাথায় রেখে বয়োজ্যেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের শরীরে পুষ্টির শক্তি বাড়ানোর চিন্তা করেন চেয়ারম্যান মাসুম। তার ফলের ডালায় ছিল- আপেল, মাল্টা, আনারস, নাসপাতি, পেয়ারা, লেবু, কলা, তরমুজ ও আঙ্গুর ইত্যাদি। আর, খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- পোলাও চাল, ডাল, তেল লবন, দুধ, সেমাই, চিনি ও মসলা।
সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের প্রত্যেকেই করোনার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তাদের এখন বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। এই ক্ষুদ্র চাহিদা মেটাতে পেরে আমি খুবই তৃপ্ত বোধ করছি।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম দীর্ঘ দুই মাস ধরে পিরোজপুর ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের কয়েক দফায় ২৭ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। এ ছাড়াও সোনারগাঁওয়ের জামপুর, সনমান্দি, নোয়াগাঁও, শম্ভুপুরা, সোনারগাঁও পৌরসভা ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। তিনি তৃতীয় লিঙ্গ হিজড়া সম্প্রদায়, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসা শিক্ষক, বেদে সম্প্রদায়, ভিক্ষুক ও পত্রিকার হকারদের মাঝেও তিনি খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। সম্প্রতি করোনার প্রাদুর্ভাবে টাকার অভাবে সদ্য ভূমিষ্ট সন্তান বিক্রি করা ওই পরিবারের পাশেও দাঁড়িয়ে ভরণ পোষণের দায়িত্ব নেন ইঞ্জিনিয়ার মাসুম।
প্রতাপের চর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, একজন চেয়ারম্যান আমাদের বিষয়ে এভাবে ভাববেন কল্পনার বাইরে। তিনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শারিরীক দূর্বলতা কাটিয়ে তোলা ও করোনা থেকে রক্ষা করার জন্য আমাদের পুষ্টিকর খাবার বাড়ি বাড়ি এসে দিয়ে যাচ্ছেন এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।
ঝাউচর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা মো. আতিকউল্লাহ বলেন, দেশে এখন মহাদুর্যোগ চলছে। এ দুর্যোগকালীন সময়ে অনেকের ঘরে খাবার নেই। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তিনি পুষ্টিকর খাবার ও ঈদ সামগ্রী নিয়ে এসেছেন এতে করে আমাদের পরিবার ও আমরা খুবই উৎফুল্ল।
পাচানি গ্রামের সৈয়দ মোস্তফা বলেন, আমরা দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি। চেয়ারম্যান মাসুমের মতো আমাদের জন্য এমনভাবে কেউ ভাবে না। আমরা তার উপহার পেয়ে খুবই খুশি।
সোনারগাঁও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ওসমান গণি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম একজন মানবিক চেয়ারম্যান। তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ভেবেছেন। তবে তিনি এ মুহুর্তে আমাদের খাদ্যের পাশাপাশি এতোগুলো পুষ্টিকর ফল নিয়ে আসবেন এটা আমাদের জন্য খুবই সৌভাগ্যের।
পুষ্টিকর খাবার বিতরণকালে সঙ্গে ছিলেন পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাজী সেলিম রেজা, সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ, সোনারগাঁও উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান বাবু, সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগ নেতা লুৎফর রহমান, মাসুম বিল্লাহ।

Tags

সাবসক্রাইব করুন!

সবার আগে নিউজ পেতে সাবসক্রাইব করুন!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন