SS TV live
youtube
wb_sunny

এই মুহুর্তে

কোয়ারেন্টিন এর প্রকৃত উদ্ভাবক নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)




মোঃ জয়নাল উদ্দিন
লেখক
বিশিষ্ট ওয়ায়েজ ও গবেষক আলেম হযরত মাওলানা হাফেজ আহসান জামিল
বিশ্বে এখন একটি মহা আতঙ্কের নাম হচ্ছে করোনা ভাইরাস কভেডি-১৯। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের উৎপত্তি চীনের উহান থেকে। আর এটি ইতিমধ্যেই বিশ্বের প্রায় ২০০ টি দেশে ছড়িয়ে গেছে। আর তা এখন সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালাচ্ছে,ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, ইউরোপের ইতালিতে। এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৭০০ এর মতন মানুষ। আর স্পেনে প্রায় ৬০০জন। আর আমাদের দেশ বাংলাদেশে গত ৪ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ মারা গেছেন ৮ জন। আর এর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।  ইতিমধ্যেই করোনা ভাইরাসের প্রকোপকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউ এইচ) বিশ্ব মহামারী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।  বিশ্ব এখন দিশেহারা এই প্রাণঘাতী করুণা থেকে রক্ষা পেতে। সারা বিশ্ব এখন গৃহবন্দী,হোম কোয়ারেন্টিনে আছে। আর এখন পর্যন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞান এর কোন ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত করতে না পারায় বিশ্বের বড় বড় ডাক্তার ও চিকিৎসকগণ মানুষকে হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে পরামর্শ দিচ্ছেন। চিকিৎসকগণ বলছেন যেহেতু এটি সংক্রামক। ভাইরাস এর মাধ্যমে যেহেতু এটি সংক্রমিত হয়। তাই মার্কিন  ইমিউনোলজিস্ট  বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অ্যান্থাসি ফসি। ডাক্তার সঞ্চয় গুপ্তের মত চিকিৎসকরা করোনা থেকে রক্ষা পেতে এই মুহূর্তে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে এবং বেশি বেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। বিশ্ব নবীর আগমনের চৌদ্দশ বছর পর গবেষকরা, গবেষনা করে বলছেন। আর চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন। মহামারীর সময় কোয়ারেন্টিনে থাকতে। এবং বেশী বেশী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি উদ্বুদ্ধ করছেন। সেখানে আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশত বছর আগেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং মহামারীর সময় কি করতে হবে! আর মহামারীতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কতটুকুন সতর্ক হতে হবে! তা জগৎ বাসিকে জানিয়েছেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সময় পৃথিবীতে উল্লেখযোগ্য কোনো সংক্রামক বিশেষজ্ঞ ছিল না। আর কোয়ারেন্টি এর ধারণা দেবার মতও কেউ ছিল না। তবে বিভিন্ন সময় মহামারীতে আক্রান্ত হলে সেই জনপদ বা তার অধিবাসী, আর  অনুসারী এবং সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুদেরকে যে পরামর্শ দিয়েছেন। এক কথায় তা ছিল তখনকার জন্য এবং বর্তমান জ্ঞান-বিজ্ঞান,আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার চরম উৎকর্ষতার যুগে দুর্দান্ত। তার সেই মূল্যবান পরামর্শ মানলেই করোনাসহ বিভিন্ন মহামারীতে অনেক সচেতনতা অর্জন করা যায়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তুমি কোন ভূখন্ডে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার খবর শুনতে পাও। তখন সেখানে প্রবেশ করোনা। আর আক্রান্ত অঞ্চল সম্পর্কে বলেন,যদি তোমার অবস্থানস্থল পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাহলে ওই জায়গা ত্যাগ করো না।
 *আর সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে বলেন, সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত যারা, তারা সুস্থ মানুষ থেকে দূরে থাকবে।
আর মুমিন যারা এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে। তাদেরকে তিনি শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।  আর বিভিন্ন সময়ে নানা পরিস্থিতিতে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জগৎবাসীকে বিশেষ করে রোগ ব্যাধিতে আক্রান্তদেরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেও উদ্বুদ্ধ করতেন। আর এ ব্যাপারে তার অমূল্য কিছু বানী হল পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ বা অংশ। তোমরা ঘুম থেকে জেগেই দুই হাত ধৌত করবে। কেননা ঘুমের মধ্যে তোমার হাত কোথায় স্পর্শ করেছে তুমি জাননা। আর খাওয়ার সময়ঃ আগে ও পরে হাত ধৌত করনের মধ্যেও বরকত রয়েছে ইত্যাদি।
 মোটকথা তার সময়ে লোকেরা যে কোন সমস্যায় পড়লে তিনি এর সমাধান বের করে দিতেন। যা আজও জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগে পৃথিবীবাসীর কাছে  শ্রেষ্ঠ পরামর্শ, শ্রেষ্ঠ সমাধান বলে গৃহীত হচ্ছে।
তাই এই সংকটাপন্ন সময়ে মার্কিন গবেষক ড. ক্রেগ কন্সিডাইন। করোনা প্রতিরোধে মহানবী (সা.) এর নির্দেশনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।মানুষকে দৃষ্টি আকর্ষন করতে বলেছেন। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সেই কালজয়ী আদর্শে আদর্শিত হওয়ার তাওফীক দিন।

Tags

সাবসক্রাইব করুন!

সবার আগে নিউজ পেতে সাবসক্রাইব করুন!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন