SS TV live
SS News
wb_sunny

এই মুহুর্তে

সোনারগাঁয়ে বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার গ্যাস।

সোনারগাঁয়ে  মহাসড়ক, বাজার এলাকা,ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, মুদি দোকান, হার্ডওয়্যার দোকান, ফাস্টফুড, কসমেটিকস দোকান, তেল বিক্রির দোকান, ফ্ল্যাক্সিলোডের দোকানসহ ফার্মেসী ও থান কাপড় বিক্রির দোকানেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। জনবহুল কিংবা আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এই এলপি গ্যাস সিলিন্ডারগুলো দোকানের সামনে বা ভেতরে খোলামেলা অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির ঘটনা। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, খুচরা এলপি গ্যাস বিক্রেতারা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই নীতিমালা লংঘন করে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই ব্যবসাটি চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানির যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা তারা রাখছেন না। আবার বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ সংগ্রহেরও তোয়াক্কাও করছেন না। এলপি গ্যাস প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর ডিলাররা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নিলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডার মজুদে আইন অনুসরণ করছেন না। ব্যবসা পরিচালনার সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করলেও ১০ টির বেশি সিলিন্ডারে আবশ্যকীয় সনদ তাদের নেই।
একাধিক খুচরা এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বেশির ভাগই আইনগত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে অবগত। তার পরও তদারকির অভাবে ঝূঁকি জেনেও তারা সনদ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাইসেন্সপ্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে এবং বিভিন্ন কোম্পানির ডিলারদের বিপণন কৌশলে প্ররোচিত হয়েও তারা আইন অনুসরণ থেকে পিছিয়ে আসছেন।
সোনারগাঁয়ের  বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ ছাড়াই স্থানভেদে ৩০ থেকে শুরু করে শতাধিক এলপি গ্যাস সিলিন্ডার দোকানে মজুদ করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া ঐসব দোকানে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার রাখার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ দোকান মালিকরা তা রাখছেন না। আবার কয়েকটি দোকানে এ গ্যাস সিলিন্ডার থাকলেও তা বেশিরভাগই মেয়াদ উত্তীর্ণ। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এলপি গ্যাস ব্যবহার, বিপণন ও বাজার জাত করতে হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ীকে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার বাধ্যতা মূলক সংরক্ষণ করার কথা। আইনের তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীরা দোকানে ও গুদামে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে দোকানিদের পাশাপাশি গ্রাহকদের মাঝেও গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহনে উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দোকান হতে সিলিন্ডার ক্রয় করে রাস্তায় গড়িয়ে, মোটর সাইকেল কিংবা বাই সাইকেলে অনেককে গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন করতে দেখা গেছে। সচেতন মহল জানান, রাস্তার পাশে কিংবা রোদে গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ঠিক নয়। এতে চাপ ও তাপ জনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
পরিবেশবীদদের মতে, যত্রতত্র অবাধে পেট্রোল ও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রীর ফলে যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটে মানুষ মারা যেতে পারে। সোনারগাঁও  ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক বলেন, একটি গ্যাস সিলিন্ডারই একটি বোমা মনে করতে হবে। তিনি আরো বলেন, অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপন আইন ২০০৩ এর ৪ ধারা মোতাবেক সরকার ঘোষিত ফায়ার সার্ভিসের কোন জ্বালানি নিয়ে কেই ব্যবসা করলে (মজুদ প্রসেসিং প্রক্রিয়াকরণ এ্যাক্ট:) তাকে উক্ত বিধান অনুযায়ী ফায়ার লাইসেন্স করতে হবে। অন্যথায় উক্ত আইনের ১৭ ও ১৮ ধারা মোতাবেক ০৩ বছরের কারাদন্ড অর্থদন্ড এবং উক্ত দোকান বা স্থানের মালামাল বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।
 ১০টির বেশি এলপি গ্যাসপূর্ণ গ্যাসাধার রাখলে যেকোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নিতে হবে। সনদ ছাড়া ব্যবসা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দেশের অনেকেই তা মানছে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি এলপি গ্যাস ব্যবসায়ে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেছি এবং আমাদের উদ্বেগের কথা তাদের জানিয়েছি।
সচেতন মহলের দাবি, যত্রতত্র অবাধে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। লাইসেন্সবিহীন সিলিন্ডার বিক্রি ঠেকাতে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি ও হস্তক্ষেপ কামনাসহ অচিরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tags

সাবসক্রাইব করুন!

সবার আগে নিউজ পেতে সাবসক্রাইব করুন!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন