SS TV live
youtube
wb_sunny

এই মুহুর্তে

সোনারগাঁওয়ে অযত্নে অবহেলায় সমাজসেবা কেন্দ্রগুলো, দখলদারিত্বে স্থানীয় ক্ষমতাসীনরা।। সোনারগাঁও সময়।


রুবেল মিয়া, সোনারগাঁও প্রতিনিধিঃ সোনারগাঁও  উপজেলায় সমাজসেবা কার্যালয় থাকলেও অধিভুক্ত কেন্দ্রগুলোতে কর্তৃপক্ষের নজরদারি নেই বললেই চলে।  নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় অযত্নে অবহেলায় বেদখল হয়ে গেছে ১৪টি সমাজসেবা কেন্দ্রের ৯টি। যেগুলো টিকে আছে, সেগুলো জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত রয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী,উপজেলার ১ টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে মোট ১৪টি সমাজসেবা কেন্দ্র (গণমিলনায়তন) রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো প্রতিষ্ঠিত  হয় ১৯৮৫ সালে।
জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের দান করা সম্পত্তিতে সেবাকেন্দ্রগুলো তৈরি করা হয়েছিল। এখানে সমাজের উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি নারীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে এসব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সবগুলো কেন্দ্রই এখন পরিত্যক্ত রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার আমিনপুরের কেন্দ্রটির অবস্থা জরাজীর্ণ। এখানে কোনো কার্যক্রম না থাকায় এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে । পৌরসভার গোয়ালদীর সেবাকেন্দ্রটি স্থানীয়রা সংস্কার করে একাংশে নামাজের স্থান তৈরি করেছেন। আরেক অংশে স্থানীয় যুবকরা খেলার সরঞ্জাম রাখেন। এ ছাড়া কেন্দ্রটির সামনের জায়গা দখল করে ওয়াসার একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাঈম আহমেদ রিপন বলেন, উপযুক্ত জায়গা না পাওয়ায় এখানে ওয়াসার নলকূপ বসানো হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও গ্রামের কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত রয়েছে। সেখানে স্থানীয় কাচাবাজারসহ এলাকার যাবতীয় ময়লা ফেলা হচ্ছে। একই  ইউনিয়নের ভবনাথপুর গ্রামের সেবাকেন্দ্রটি আংশিক সংস্কার করে স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চৌধুরীগাঁও গ্রামের পরিত্যক্ত কেন্দ্রটি দখল করে স্থানীয় কয়েকজন বসবাস করছেন। একই ইউনিয়নের হোসেনপুর কেন্দ্রের ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে জমিটি এখন চলে গেছে স্থানীয় কয়েকজনের দখলে। নোয়াগাঁও ইউনিয়নের লাধুরচর গ্রামের কেন্দ্রটি দখল করে গরুর খামার করেছেন স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ার হোসেনের ভাই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব মিয়া।
 জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের কেন্দ্রটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। একই ইউনিয়নের বাগবাড়িয়া এলাকার  কেন্দ্রটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় নুরুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জমিটি দখলে নিয়ে বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন।   বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়াপাড়ায় পরিত্যক্ত কেন্দ্রটি সংস্কার করে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঊর্মি আক্তার তার নিজস্ব কার্যালয় তৈরি করেছেন।
সাদিপুর ইউনিয়নের নানাখী গ্রামের কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত রয়েছে। কাঁচপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর কেন্দ্রের ৮ শতাংশ জমি বেদখল হয়েছে। এ ছাড়া বারদী ইউনিয়নের ৬ ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের আলাবদী গ্রামে কেন্দ্রের ১০ শতাংশ জমি বেদখল হয়েছে।
সেবাকেন্দ্রগুলোর দখলদারদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ এগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায়  আছে। তাই আমরা এগুলো একটু সংস্কার করে ব্যবহার করছি। সরকারের যখন প্রয়োজন হবে, তখন সরকার আবার এগুলো নিয়ে যাবে, আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবিকা সুলতানা বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ সেবাকেন্দ্রগুলোতে কোনো কার্যক্রম না থাকায় এগুলো পরিত্যক্ত রয়েছে। ১৪টি কেন্দ্রের মধ্যে কুতুবপুর, বারদী, ভবনাথপুর, আলাবদী, গোয়ালদী ও নানাখী এ ছয়টি কেন্দ্রের দলিল আমাদের হাতে নেই। এগুলোর দলিল ও বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে সেবাকেন্দ্রগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

Tags

সাবসক্রাইব করুন!

সবার আগে নিউজ পেতে সাবসক্রাইব করুন!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন