ভূমিদস্যু জামাই মোস্তফা ও তার ভাই দস্যু জাফরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে:সোনারগাঁওবাসী



সোনারগাঁও সময়: সোনারগাঁয়ের চিহ্নিত মেঘনা নদীখেকো আল-মোস্তফার বৈদ্যেরবাজার এলাকার অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন বিআইডব্লিওটিএ।
এতে অভিযানটি সর্বমহলে প্রশংসিত হলে এলাকাবাসী ভূমিদস্যু আল মোস্তফা ওরফে জামাই মোস্তফা ও তার ভাইদস্যু  জাফরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন।  তারবিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্হা না নেওয়ায় সাধারন জনগন ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। নদী দখলের অভিযোগে সোনারগাঁয়ের সাধারন জনগন ও পরিবেশবাদীরা আল-মোস্তফার দখলকৃত নদী উচ্ছেদসহ তাকে দ্রুত গ্রেফতার ও তার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়েরের দাবি জানিয়ে আসছে বহুদিন থেকেই। নদীখেকো আল-মোস্তফার সাথে স্হানীয় প্রশাসন ও বিআইডব্লিওটিএ এর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে রয়েছে গভীর সখ্যতা। তাই সোনারগাঁবাসী আশংকা করছে স্হানীয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় নদীখেকো আল-মোস্তফা এবং তার ভাই জাফর ইকবাল সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদী ও শাখা নদী পুনরায় দখল করে দখলের সব রেকর্ড ছাড়াববেন।

মেঘনা নদী, শাখা নদী, সরকারি খাল, খাস সম্পত্তি, নদী তীরবর্তী ফোরশোর ল্যান্ডভূক্ত জমি, গৃহহীনদের জন্য আবাসন প্রকল্প গুচ্ছগ্রামসহ ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষি জমি কোনকিছুই বাদ দেয়নি আল-মোস্তফা গ্রুপ। আর এই অপকর্মের প্রত্যক্ষ সহযোগী তার ভাই জাফর ইকবাল।

সরকারি সম্পত্তি দখল ও আত্মসাত করাই আল-মোস্তফা ও তার ভাই জাফর ইকবালের মূল পেশা। যেখানেই নদী, খাস সম্পত্তি রয়েছে সেখানেই হাত বাড়িয়েছে আল-মোস্তফা গ্রুপ। সরকারি সম্পত্তি দখল করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন আল-মোস্তফা। আল-মোস্তফার দখল প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আল-মোস্তফা ও জাফর ইকবালের আগ্রাসনে প্রতিনিয়ত নি:স্ব হচ্ছে সোনারগাঁয়ের মানুষ। রাজনৈতিক কিছু দালাল ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতায় বীরদর্পে নদী, সরকারি খাস সম্পত্তি এবং সাধারন মানুষের জমি দখল করছে আল-মোস্তফা। সোনারগাঁবাসী এই নদীখেকোর দখলকৃত নদী উচ্ছেদের সাথে সাথে তাকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

জানা গেছে, সোনারগাঁয়ের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, বিআইডব্লিওটিএ কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ের সাথে যোগসাজশে প্রকাশ্য নদী দখল, সরকারি সম্পত্তি দখল, গৃহহীনদের গুচ্ছগ্রাম দখল এবং কৃষকের কৃষি জমি জোরপূর্বক দখল করে সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে আল-মোস্তফা গ্রুপ। স্হানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের কয়েক কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে সরকারের কয়েক শত কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ করছে আল-মোস্তফা।

 স্থানীয় এলাকাবাসী আল-মোস্তফার ব্যাপক দুর্নীতি, কৃষকের কৃষি জমি ভরাট, নদী দখরের প্রতিবাদে একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ, সড়ক অবরোধ, স্বারক লিপিসহ একাধিকবার লিখিত অভিযোগ প্রদান করেও নূন্যতম ফল পায়নি। কারন, ব্যবস্হা নেওয়ার দায়িত্ব রয়েছেন উপজেলা প্রশাসন ও এসিল্যান্ড অফিসের কর্তার সাথে আল-মোস্তফার রয়েছে গভীর সখ্যতা।

 স্হানীয় প্রশাসন নূন্যতম  কোন ব্যবস্থা তো নেয় নি, উল্টো নদী দখলে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন। স্থানীয় এলাকাসাসী জানায়, আল-মোস্তফা পুনরায় আবার উচ্ছেদকৃত নদী দখল করবে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্হা না নিলে তাকে থামানো যাবে না। তাই দ্রুত আল-মোস্তফা ও তার ভাই জাফর ইকবালকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানায় এলাকাবাসী। আল-মোস্তফা এতটাই ক্ষমতাশালী যে, উচ্চ আদালতের নির্দেশের তোয়াক্কাই করে না এই নদীখেকো। উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করছেনা স্থানীয় প্রশাসনও।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার সাতভাইয়াপাড়া ও চর লাউয়াদী মৌজার মেঘনা নদী, নদীর তীরবর্তী খাস ভূমি, সরকারি দুইটি খাল এবং ফোরশোর ল্যান্ডভূক্ত ভূমিতে বালু ভরাট করে রেখেছে আল মোস্তফা গ্রুপের মালিকানাধীন ইউরো মেরিন শিপ বিল্ডার্স ও হেরিটেজ পলিমার এন্ড ভেজিটেবলস লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানটি। তবে, বিআইডব্লিওটিএ নদীর মাঝে নির্মান করা চার তলা বিল্ডিং ভেঙ্গে দিয়েছে।  আবার নদী দখল করার আশংকায় রয়েছে বৈদ্যেরবাজার বাসী। স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তিদের সহায়তায় বৈদ্যেরবাজার এলাকায় নদীর পশ্চিম দিকে ২০০০ বাই ৭০০ বর্গফুট পরিমান মেঘনা নদীর তীরভূমি ভরাট করে ফেলেছে এই নদীখেকো। বিআইডব্লিওটিএ এর নির্দেশ মত বালু অপসারন দেখতে চায় এলাকাবাসী। বালু ভরাটের কারনে মেনীখালী নদীর মুখ শুকিয়ে যাওয়ায় রতনপুর, ভাটি বন্দর, পিরোজপুর, দুধঘাটা ও নোয়াগাও গ্রামের কৃষকরা চলতি ইরি মৌসুমে পানি সংকটে পর্যাপ্ত সেচ দিতে পারছেন না। এতে প্রায় ২শ’ একর কৃষি জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশংকা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ এবং এলাকাবাসী। নদী দখলের কারনে সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী কাইকারটেক হাট থেকে বৈদ্যেরবাজার ঘাটে নৌ-চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে, তাই মেনীখালী নদীর মুখ খুলে নদী প্রসস্ত করনের দাবি জানায় এলাকাবাসী।

জানা গেছে, নদী দখলের পাশাপাশি ইউরো মেরিন শিপ বিল্ডার্স ও হেরিটেজ পলিমার এন্ড ভেজিটেবলস লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানটি মালিক আল মোস্তফা সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমিও দখল করেছে। ইতিমধ্যে সড়ক ও জনপদ বিভাগ দখলকৃত রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ করলেও তা আমলে নেয়নি আল-মোস্তফা গ্রুপ। তাই সড়ক ও জনপদ বিভাগ দ্রুত তাদের জমি উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে বলে আশাবাদী এলাকাবাসী।

নদী দখলের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বিগত ২০১৭ সনের ৬ ডিসেম্বর সরেজমিনে তদন্তে এসে বৈদ্যেরবাজার এলাকায় মেঘনা নদীর পশ্চিম দিকে ২০০০ বাই ৭০০ বর্গফুট পরিমান মেঘনা নদীর তীরভূমি দখল ও ভরাটের সত্যতা পায়। পরবর্তীতে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ, উপ-পরিচালক এহেতেশামুল পারভেজ, সহকারী পরিচালক শাহ আলম, সহকারী তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর আলমসহ কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির সকল কাজ বন্ধ করে ৭ দিনের মধ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠানটির নিজ খরচে বালু অপসারণ করার নির্দেশ দেন। এমনকি সহকারী কমিশনার (ভূমি), সোনারগাঁও কার্যালয় থেকেও বালু অপসারণ ও দখলকৃত নদী ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাই এবারও নদী থেকে বালু সরাবে কি না তা নিয়ে এলাকাবাসী সন্দেহে আছে।
সুত্র :জাগো নারায়ণগঞ্জ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

[blogger]

MKRdezign

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget